ভাঙ্গায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে হাইওয়ে এক্সপ্রেসে গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহতের অভিযোগ। পুলিশ সাংবাদিক সহ আহত-১০


মোঃ রমজান সিকদার
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা-৩০/০৬/২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে কয়েক গ্রামবাসীর মধ্যে দুই ঘন্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন শেখ (২২) নামে এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবার নিশ্চিত করেছেন। তবে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা থেকে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ের শুরু ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডে থাকা অন্তত ২০ টি দোকান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া পুলিশ, সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
জানা যায়, ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েক যুবকের মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হাতাহাতি থেকে এ সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। এক পর্যায়ে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মহাসড়কের দুইপাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েক গ্রামবাসী অবস্থান করেন এবং তাঁদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাঁদের সাথে আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশ নেন। এ সময় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে থাকা প্রায় ২০ টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষকারীরা একসময় পুলিশের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।
এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন শেখ গুরুত্বর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায় বলে পরিবার জানিয়েছেন। সে ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঐ যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মুখের চোয়ালের দিকে গুলি সদৃশ্য বস্তু ভেদ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। ধারণামতে, সেটি শর্টগানের গুলি হতে পারে। যার ফলে তাঁর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।
এদিকে রাত ১২ টার দিকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহতের স্বজন জিহাদ মুন্সি বলেন, ফরিদপুর মেডিকেলে না নিয়ে আমরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু ওরে বাঁচানো যায়নি। এখানে আনার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন লাশ বাড়িতে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ সুমন শেখের  মৃত্যুর খবরে রাত সাড়ে নয়টার সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো বাসষ্টান্ড এলাকা। এ সময় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে এলাকাবাসী। এতে তিন ঘন্টা ধরে মহা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়ে হাজার হাজার সাধারন যাত্রারী।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহায়তায় বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ২ পক্ষ মহাসড়কের উপর সংঘর্ষে লিপ্ত থাকে। এতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে সুমন নামে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু বলেন, আমরা শুনেছি ঢাকায় ছেলেটি মারা গেছেন। তবে এখনও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।