ভাঙ্গায় ওসির হস্তক্ষেপে প্রানে রক্ষা পেল ৫ শিশু শিক্ষার্থী

ষ্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুর রহমানের হস্তক্ষেপে প্রানে রক্ষা পেল উপজেলার কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ শিশু শিক্ষার্থী।

জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে মামা বাড়ি থেকে মামাকেসহ অটো ভ্যানযোগে নিজ গ্রাম কালামৃধায় ফেরার পথে থানার বিশেষ সোর্স নামে খ্যাত জাহাঙ্গীর বেপারী ও তার সহযোগিরা দেওড়া বাজারে তাদের আটক করে। আটককৃতরা এ সময় নিজেদেরকে কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলেও শেষ রক্ষা পায়নি। একপর্যায়ে চোর আখ্যায়িত করে তাদেরকে বেদম মারপিট করা হয়।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুর রহমান পুলিশ পাঠিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেখানে ঐ ৫ শিক্ষার্থীকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. লিটন মাতুব্বর, ১ নং ওয়ার্ড মেম্বার কালাম বিলুয়া এবং উক্ত স্কুলের শিক্ষক মজিবর রহমান সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রত্যেককে অভিভাবকদের নিকট বুঝিয়ে দেন। এ সময় অভিভাবকরা ঘটনার বিচারের দাবিতে পরিষদের সামনে বিক্ষোভ করেন।

ঘটনার শিকার কালামৃধা গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলেন সাইফুল ইসলাম (১৫) দশম শ্রেনী, আল আমিন (১৪) নবম শ্রেনী, রবিউল ইসলাম (১৪) নবম শ্রেনী, সাইফুল (১৪) এবং রফিকুল (১৫)। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে গণমাধ্যমকে বলেন, মামাদের সাথে পূর্ব দুশমনিতার কারনে পুলিশের সোর্স জাহাঙ্গীর বেপারী ও তার সহযোগিরা অন্যায়ভাবে আমাদেরকে চোরের অপবাদ দিয়ে বেদম মারপিট করে। আমরা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিচার চাই।

এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষক মজিবর মাষ্টার বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে আটকের খবর পেয়ে ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ফোন দিয়েছিলাম। এরপরও তাদেরকে মারপিট করা দু:খজনক। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির সাথে জড়িতদের শিশু নির্যাতন আইনে বিচার হওয়া উচিৎ।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যার মো. লিটন মাতুব্বর ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের অমানবিক নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। এটা দন্ডনীয় অপরাধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, জাহাঙ্গীর থানা পুলিশের সোর্স হবার সুবাদে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়না। তার নানান অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ট।

এ ঘটনায় ঐ এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।