ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফ্লাট ব্যবসায়ি আঃ মান্নানের প্রতারনার শিকার শহীদ পরিবার দরবেশ আনোয়ার মোল্লার নাতনী তানিয়া আক্তার ও তার দেবরের স্ত্রী নাসরিন আক্তার।
জানা যায়, ২০১৪ সালে তানিয়ার মা ও খালার কাছ থেকে হাজী আঃ মান্নান ৯ শতাংশ জমি ১৫ জনের নামে ক্রয় করে ১৫ জন ফ্লাট নির্মান কাজ শুরু করে। প্রতিটি ফ্লাটের মুল্য জায়গাসহ ১৫ লাখ টাকা নির্ধারন করা হয়। সে মোতাবেক তানিয়ার কুয়েত প্রবাসী স্বামী আবুল কালাম ও তার দেবর মামুন খানের নামে ২টি ফ্লাট নিজ নিজ নামে রেখে সম্মিলিত ভাবে নির্মান কাজ শুরু করে এবং উক্ত ফ্লাটের সমস্ত দেখা শুনার দায়িত্ব হাজী আঃ মান্নানের উপর ন্যস্ত হয়। হাজী আঃ মান্নান উক্ত ফ্লাটের সমস্ত কাজ শেষ করে ১৫ জন মালিককে ২ বছরের মধ্যে ফ্লাট হস্তান্তর করার কথা। মান্নান সকলের কাছ থেকে উক্ত তারিখ হইতেই প্রতি মাসের টাকা নিজে স্মাক্ষর করে প্রত্যেক মালিকের কাছ থেকে বুঝে নেন। তানিয়া ও নাসরিন কথা মোতাবেক মান্নানকে সঠিক সময়েই ২টি ফ্লাট বাবদ ২৯ লক্ষ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু হাজী আঃ মান্নান সকলের ফ্লাট বুঝে দিলেও তানিয়া ও নাসরিনের ফ্লাট ২টি না বুঝে দিয়ে টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায় সে তাদের কাছে অতিরিক্ত ৭ লাখ টাকা দাবি করে। উক্ত টাকা দিতে তানিয়া ও নাসরিন অপারগতা প্রকাশ করলে মান্নান তাদেরকে ফ্লাট দিবেনা বলে জানিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে তানিয়া ও নাসরিন ভাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের নিকট ফ্লাট দাবি করে লিখিত অভিযোগ দেয়। মেয়র মহোদয় উভয় পক্ষের জবানবন্দি নিয়ে একটি শালিস বোর্ড গঠন করে রায় দেন। রায়ে মান্নানকে ফ্লাট ২টি তাদের বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়।
মান্নান উক্ত মেয়রের রায় উপেক্ষা করে তানিয়া ও নাসরিনের বিরুদ্ধে ফরিদপুর ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে ১৪৪ ধারায় মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানীআন্তে মেয়র মহোদয়ের রায়কে ১ মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সে রায়কেও মান্নান উপেক্ষা করে তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তানিয়া ও নাসরিনকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করতে থাকে।
এরই প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল করে। বুধবার সকালে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের গ্রীন টাওয়ারের সামনে প্রায় ঘন্টাব্যাপি শতশত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে অবৈধ ফ্লাট ব্যবসায়ি মান্নানের গ্রেফতারের দাবি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সড়ক হতে অবরোধ তুলে দেয়। পরবর্তীতে মিছিলটি ভাঙ্গা বাজার প্রদক্ষিন করে উপজেলা চত্বরে এসে শেষ হয়।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর মোল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক মোল্লা, নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন মীর, তুজারপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল, নাসিরাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি বাসুদেব সরকার অভি প্রমুখ।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি লুৎফর মোল্লা বলেন, অবৈধ ফ্লাট ব্যবসায়ি আঃ মান্নান আমার ২ বোনের কাছে ২টি ফ্লাট বিক্রি করে টাকা বুঝে নিয়েও তাদের ফ্লাট না দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে পৌর মেয়র মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে সে আমাদেরকে ফ্লাট ২টি বুঝে দেওয়ার জন্য রায় দেয়। পরবর্তীতে আঃ মান্নান মেয়রের রায়কে উপেক্ষা করে ফরিদপুর জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা দয়ের করে। বিজ্ঞ আদালতও আমার বোনের পক্ষে ফ্লাট বুঝে দেওয়ার জন্য মান্নানকে ১ মাসের সময় বেধে দেন। সে সকল রায় উপেক্ষা করে ফ্লাট ২টি বুঝিয়ে দেয়নি। একপর্যায় আমরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের সহায়তায় ফ্লাট বুঝে নিলে ক্ষিপ্ত হয় আঃ মান্নান। তাছাড়া সে পৌরসদরে একাধিক ফ্লাটের ব্যবসা করে আসছে সরকারকে কর ফাঁকি দিয়ে। গ্রাহকদের সাথে খারাপ ব্যবহার ও ফ্লাট ক্রয়কৃতদের অকারনে ঘুরিয়ে টাকার অংক বাড়িয়ে নিজে কোটি পতি হচ্ছে। তার এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধের জন্যই আমাদের আন্দোলন।

