ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবলা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এবার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৭ ডিসেম্বর’ ২০২০ তারিখে এবিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সহ বেশ কয়েকটি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার শরৎ চন্দ্র মালো নামের এক ব্যক্তি। এরই মধ্যে অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন অধিদপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত ঐ অভিযোগে বলা হয়েছে, বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত দেবলা চক্রবর্তী ভাঙ্গা উপজেলায় মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকেই ঘুষ বাণিজ্য, ইউপি পর্যায়ে মৎস্য চাষ, এনএটিপি-২, উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন, খাল খনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বাৎসরিক বরাদ্দের ৫০ শতাংশ লোপাটের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, দেবলা চক্রবর্তী চাকরিতে যোগদানের পর নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। তার আত্নীয় স্বজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও রেখেছেন বিপুল পরিমান টাকা। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে প্রতিবছর মুসলমান জেলেদের না দিয়ে বেশীরভাগ হিন্দু জেলেদের মাঝে অনৈতিক অর্থ সুবিধা নিয়ে ঋন বিতরণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার অফিস সহকারির মাধ্যমে এসকল অনৈতিক কাজগুলি করে যাচ্ছেন।
উপজেলার অর্ধশত জেলে বর্ষা মৌসুমে বিশেষ চুক্তিতে নদী ও খালে ভেশাল দিয়ে পোনা মাছ শিকার করছে। এই সমস্ত জেলেদের নিকট থেকেও অনৈতিক অর্থ সুবিধা নিচ্ছেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।পাইকারি ও খুচরা বাজারে ঝাঁটকা ইলিশ মাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও রফাদফা করছেন তিনি। বড় বড় মাছের আড়ৎ থেকেও বিভিন্ন সুবিধা নেবারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি হতদরিদ্র জেলেদের মাঝে জাল, ভিটি ও মৎস্য উপকরণ বিতরণে দূর্নীতি করে আসছেন। তাঁর কথামত সুবিধা না দিলে অভয় আশ্রম লিজ দেন না অনেককেই।
এছাড়াও অবৈধ কারেন্ট জাল প্রকাশ্যে হাট বাজারে বিক্রয়কারীদের সাথে গড়ে তুলেছেন সখ্যতা।তিনি অভিযানের নামে যে সমস্ত জেলে মাসিক টাকা দেন না, ঐ সকল জেলেদের জাল সহ আটক করে জেলে পাঠিয়ে থাকেন। যে সমস্ত জেলেরা মাসিক টাকা দেন তাদের দেখেও দেখেন না তিনি।
তাঁর বিরুদ্ধে ঝাঁটকা মাছ আটক না করে মাছের আড়ৎ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেবারও অভিযোগ আনা হয়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত মৎস্য কর্মকর্তা দেবলা চক্রবর্তীর নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কতিপয় ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

