ফুটবলের উজ্জ্বল তারা হতে চায় শামসুন্নাহার

মাকে হারিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকত শামসুন্নাহার। কতই-বা বয়স তখন? মাত্র ১০ বছর।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মায়ের নিথর দেহ যেদিন অ্যাম্বুলেন্সে করে ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার মুক্তাগাছার বাড়িতে নিয়ে আসা হলো, ফ্যালফ্যাল করে সেদিন চেয়ে ছিল মায়ের মায়াভরা মুখের দিকে। বাবা নেকবর আলী ফুটবল খেলতে দিতে চাইতেন না, মা এগিয়ে এসে বকা দিতেন বাবাকে। কত দিন যে মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে বাবার লাঠির বাড়ি থেকে নিস্তার পেয়েছে, সে কথা মনে পড়লে এখনো চোখের কোণে জল জমে ওঠে। সেই জল মুছে আবারও ফুটবল খেলতে শুরু করে শামসুন্নাহার। ফুটবলেই ভুলে থাকতে চায়, মা হারানোর শোক, দুঃখ।

এই ফুটবলেই আনন্দ খুঁজে নেয় বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার। ধোবাউড়ার কলসিন্দুর গ্রামের পাশের গ্রাম মুক্তাগাছায় তার বাড়ি। কলসিন্দুর যেন বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল প্রতিভার খনি। আর সেই খনি থেকে বেরিয়ে আসা একেকটি মুক্তা ঝিলিক দিয়ে ভাসিয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে। সেই মুক্তার একটি টুকরা শামসুন্নাহার জুনিয়র। হংকংয়ে ১ এপ্রিল শেষ হওয়া জকি ক্লাব চার জাতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছে শামসুন্নাহার।

আসলে বাংলাদেশ দলে রয়েছে দুজন শামসুন্নাহার। জাতীয় দলের জার্সি প্রথমে গায়ে চাপিয়েছে সিনিয়র শামসুন্নাহার। ২০১৪ সাল থেকেই সে দাপটের সঙ্গে খেলে চলছে। শুরুতে ডিফেন্ডার হিসেবে খেললেও গত ডিসেম্বরের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে সিনিয়র শামসুন্নাহার খেলেছে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। আর শামসুন্নাহার জুনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পায় প্রথম গত ডিসেম্বরে। খেলছে ফরোয়ার্ড পজিশনে।